জীবন ধর্ম সংস্কৃতি

মানব জাতির জন্মলগ্ন থেকে ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এই হিসেবে ধর্মই সবচাইতে প্রাচীনতম মতবাদ। যুগ যুগ থেকে ধর্মের সাথে মানুষের প্রতিটি ক্রিয়াকর্মের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। মানুষের মনোজগত থেকে শুরু করে রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি প্রভৃতির সাথে ধর্ম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সমাজ বিজ্ঞানীদের দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা-‘ধর্মের সম্পর্ক শুধুমাত্র মনোজগতের সাথেই নয় বরং সমাজ ও সংস্কৃতি এবং সংস্কৃতির ধারক ও বাহকদের সাথে রয়েছে এর নিবিড় সম্পর্ক।’
সংস্কৃতি হচ্ছে আরবী ‘তাহজিব’ এবং ইংরেজী ‘কালচার’ শব্দের বাংলা সমার্থক। আভিধানিক অর্থে সংস্কৃতি বলা হয় গাছের ‘কাঁটা’ বা অপ্রয়োজনীয় অংশ ছেঁটে ফেলা। সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে সংস্কৃতি হলো-‘মানুষের বিশ্বাসলব্ধ মূল্যবোধে উদ্ভুত পরিশীলিত ও মার্জিত মানসিকতা।’
সংস্কৃতির উৎস হলো মানুষের মনের বিশ্বাস। ভাষা, বর্ণ, গোত্র, অঞ্চল প্রভৃতি সংস্কৃতির েেত্র মূখ্য নিয়ামক নয়। আমরা এ কথার সত্যতা খোঁজতে অন্য কোথাও না গিয়ে শুধু বাংলাদেশের সামাজিক অবস্থা পর্যবেণ করলেই মোটামুটি অনুভব করতে পারবো। বর্তমান হিসাবে বাংলাদেশের আয়তন ৫৫ হাজার ৫শ’ ৯৮ বর্গমাইল। জনসংখ্যা প্রায় ১২কোটি। এর মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। জনসংখ্যানুপাতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দ্বিতীয় স্থানে, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীগণও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় আছেন। আমি উপমার জন্যে শুধু হিন্দু-মুসলিম সংস্কৃতির ভিন্নতা এখানে তুলে আনছি। এই দুই ধর্মবিশ্বাসী স¤প্রদায়ের ভাষা. বর্ণ, অঞ্চল এক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গোত্রও অভিন্ন, তবু উভয়ের সংস্কৃতিতে প্রচুর ভিন্নতা রয়েছে। যেমন-এখানে কেউ গরু কুরবানী করে গোস্ত খেয়ে শুধু তৃপ্তিই পায় না, সাথে সাথে পূণ্যও অর্জন করে। আর কেউ গাভীকে দেবী বলে পূজা করে এবং ‘গো’ হত্যা মহাপাপ বলে বিশ্বাস করে। কেউ মৃত ব্যক্তিকে আতর, গোলাপ, আগর, সুগন্ধি লাগিয়ে কাফন পরায়, অতঃপর জানাযা এবং দাফন করে। আর কেউ ‘রাম শান্তি-রাম শান্তি’ বলে মরাকে শ্মাশানে নিয়ে চিতাভষ্মে পরিণত করে। কেউ বিয়ের সময় আল্লাহ-রাসুলের নামে কবুল! কবুল! বলে একে অন্যকে গ্রহণ করে। কেউ ধুপ-ধুনা, গান-বাজনা ইত্যাদির সাথে সাত চক্কর দিয়ে ‘মা সরস্বতির’ নামে নববধূর কপালে সিঁদুর পরায়। কেউ সুখে-দুঃখে আল্লাহর কাছে শান্তি, সাহায্য কামনা করে। আর কেউ রাম-রাম বলে প্রার্থনা করে। কেউ নিরাকার আল্লাহর এবাদত করে। আর কেউ মাটির দেবতাকে পূঁজো দেয়। কেউ বলে আস্সালামু আলাইকুম। আর কেউ বলে নমস্তে। কেউ পড়ে পায়জামা-পাঞ্জাবী, টুপি-পাগড়ী। আর কেউ সাদা ধুতি, পাঞ্জাবী পরে গলায় লাগায় যজমানের পৈতা। কেউ যায় মক্কা-মদিনায় আল্লাহর ঘর তোয়াফ ও রাসুল (সা.)-এর মাজার জিয়ারতে। আর কেউ যায় গঙ্গা জলে স্নান করে ভগবানকে তুষ্ঠ করতে। কেউ বলে কচ্ছপ খাওয়া জায়েজ নয়। আর কেউ তা খেয়ে তৃপ্ত হয়। এ ধরনের অনেক ভিন্নতা আছে এদেশের সংস্কৃতিতে। এই ভিন্নতার মূল কারণ অবশ্যই ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিন্নতা। তাই বলা হয়-সংস্কৃতি সর্বদা লালিত হয় মানুষের হৃদয়ে লালিত বিশ্বাস দ্বারা। আর সেই বিশ্বাসকেই দৃঢ় করে ধর্ম। তাই মানব সংস্কৃতির মূল উপাদান হিসাবে ধর্মকে গণ্য করা হয়। অবশ্য এ ব্যাপারে বিশ্বের প্রখ্যাত তাত্ত্বিকগণ অনেক পূর্বেই দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেন। এর মধ্যে এক দল ধর্মকে আধ্যাত্মিক শক্তির সাথে সম্পর্কিত করে মানুষের মনোজগতকে ব্যাখ্যা করেছেন। ওদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-ইবি টাইলর (ঊ.ই. ঞুষড়ৎ), জেমস ফ্রেজার (ঔধসবং ঋৎধুবৎ), ম্যাক্স মুলার (গধী গঁষষবৎ) প্রমুখ। আর অন্য দল ধর্মকে মানব সমাজের একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈপরীত্য হিসাবে মূল্যায়ন করেছেন। তাদের বেশির ভাগই কমিউনিস্ট তাত্ত্বিক। এই ভাগের নেতৃত্বে ছিলেন ফরাসীর বিখ্যাত সমাজ বিজ্ঞানী ‘এমিল ডুখেইম’ (ঊসরষব উঁৎশযবরস). কমিউনিস্ট দর্শনের জনক কার্ল মার্কস ধর্মকে আফিমের সাথে উপমা দিয়েছেন। যারা আজো কার্ল মার্কসের মতো ধর্মকে অফিমের মতো সম্মোহন সৃষ্টিকারী প্রভাব বিস্তারক ও তিকর মনে করেন বা ধর্মকে শুধু মসজিদ, মন্দির, গির্জার বিষয় ভাবেন, তারা সমাজের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে যেমন অজ্ঞ; তেমনি অজ্ঞ ধর্মের সংজ্ঞা সম্পর্কেও। সকল ধর্মের দর্শন সকল ব্যাপারে অবশ্যই এক নয়। তবে কিছু বিষয় আছে যা সকল ধর্মেই সার্বজনীন। যেমন-শান্তির মহাবাণী সকল ধর্মই অকপটে বলে থাকে। তাই সকল ধর্ম বিশ্বাসীদের অভিধানে ধর্ম শব্দের অর্থ বলা হয়েছে-পূণ্য, সুকৃতি, শাস্ত্রানুযায়ী আচার, সৎকর্ম, গুণ, কর্তব্য-কর্ম, রীতি, স্বভাব ইত্যাদি। মানুষকে সকল ধর্মই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ প্রাণী হিসাবে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছে। আল কুরআনের আলোকে মানুষ ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ অর্থাৎ সৃষ্টির সেরা জীব। আল্লাহ মানুষের সৌন্দর্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন-আমি মানুষকে সুন্দরতম অবয়বে সৃষ্টি করেছি।
হিন্দু ধর্ম শাস্ত্র ‘মহা ভারত’-এ বলা হয়েছে, ‘না মানুষ্যৎ তারপরং বাচ্যং”। অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তার সৃষ্ট জীবের মধ্যে মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ। খ্রিস্টান ধর্ম শাস্ত্র ‘বাইবেল’ এ বলা হয়েছে-‘এড়ফ গধফব সধহ ধভঃবৎ যরং ড়হি রসধমব’- অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা তাঁর আদলে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। এভাবে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অপরাপর ধর্মেও একই কথা বলা হয়েছে। অবশ্য বিভিন্ন ধর্ম সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। জীবন, মৃত্যু, সমাজ, ইহকাল, পরকাল, মানব গোষ্ঠীর উৎপত্তি সম্পর্কেও বিভিন্ন মত রয়েছে। কিন্তু কোনো ধর্মই ‘মালিক’-কে অস্বীকার করেনি। বিশ্বাসীগণ সর্বদা মালিকের অধিনস্ততা স্বীকার করে তাঁর সন্তুষ্টির চেষ্টা করেন বলেই তাঁরা অপকর্ম থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন। ধর্মবোধ ও ধর্মানুশীলন মানুষের মধ্যে বিশ্বাসের জন্ম দেয়।
বেশির ভাগে বিশ্বাসীরা অপকর্ম থেকে নিজেকে রা করতেও সম হন। সর্বশক্তিমানের বিশ্বাস মানব সমাজকে অনিয়ম আর অপকর্ম থেকে বাঁচিয়ে রাখার একটি উত্তম উপায়। আমরা দেখতে পাই বর্তমান বিশ্বের সর্বত্র যত অনিয়ম, অন্যায়, অবিচার, শোষণ, নির্যাতন, মানুষে-মানুষে হানাহানি, নারী ধর্ষণসহ অপকর্মসমূহ সংগঠিত হচ্ছে সবগুলোর মূল উৎস ধর্মহীনতা, ধর্মনিরপেতা, নাস্তিকতা ইত্যাদি। যারা মনে করে সৃষ্টিকর্তা বা মালিক বলে কেউ নেই, যারা মানুষকে মনে করেÑসকল শক্তির উৎস, যারা সৎ এবং অসৎকর্মের বদলা পাওয়ার বিষয়ে বিশ্বাস করে না-তারাই ধর্মহীন। অন্য কথায় ধর্মনিরপেতাবাদী, নাস্তিক। সমাজ ওদেরকে অবিশ্বাসী বলে চিহ্নত করে থাকে। অবিশ্বাসীদের আচরণের প্রতি সকলের সতর্ক দৃষ্টি থাকা উচিত। কারণ, একমাত্র অবিশ্বাসীদের দ্বারাই সম্ভব মানবতার স্বার্থ বিরোধী কাজ সংগঠিত হওয়া, মানুষকে অত্যন্ত কৌশলে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা। শোষণ, নির্যাতন, খুন, রাহাজানির মতো অপকর্ম করতেও তাদের না আছে কোনো কিছুর ভয়, না আছে কোনো প্রকার লজ্জা। ওরা ‘মানুষ সকল শক্তির উৎস’ বলে বিশ্বাস করে বলেই মানুষের উপর মানুষের প্রভুত্ব সৃষ্টি করে বসে। এসব তাদের কর্মকাণ্ড এবং দর্শন থেকেই স্পষ্ট। ধর্ম সমাজে সুখ-শান্তি, নিয়ম-শৃংখলা সুপ্রতিষ্ঠিত করে দেয়। সুন্দর জীবন পরিচালনার জন্য ধর্মের বিশ্বাস একটি উত্তম হাতিয়ার। কারণ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি মানুষের জীবনে সংহতি তৈরি করে এবং সৎ কাজের অনুভুতি প্রদান করে। আমরা বিশ্বাস করি, ধর্মীয় দর্শনের মাধ্যমে মানুষ নিজে নিয়ন্ত্রিত থাকার প্রচুর মনোবল পায়, শান্ত থাকে মানুষের আত্মা। যদিও আজকের বস্তুবাদী নাস্তিকদের কাছে আত্মার কোনো গুরুত্ব নেই। মূর্খরা সুখ-দুঃখের উৎস হিসেবে আত্মার গুরুত্ব না দিলেও বাস্তবে আত্মাকে অস্বীকার করার কোনো পথ নেই। বিশ্ব বিখ্যাত দার্শনিক হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাযালী (১০৫৮-১১১১) তাঁর ‘কিমিয়ায়ে সা’আদাত’-এ বলেন, ‘দেহটি যেন একটি শহর এবং হস্তপদ ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেন শহরের বিভিন্ন ব্যবসায়ী, কামনা-বাসনা উক্ত শহরের রাজস্ব আদায়কারী তহশীলদার বা কালেকটর। ক্রোধ তার কতোয়াল বা পুলিশ, আর আত্মা তার বাদশা, বুদ্ধি বিবেক তার উজির।
ইমাম গাযালী (র.) আত্মাকে রাষ্ট্রের পরিচালক এবং বাদশার সাথে উপমা দিয়ে বুঝাতে চেয়েছেন মানবদেহে সবকিছু পরিচালনা করে আত্মা। আজ নাস্তিক বস্তুবাদী মানুষগুলো অজ্ঞতার কারণে অথবা অসৎ স্বার্থ হাসিলের জন্যে মানুষকে সকল শক্তি উৎস বলে থাকলেও এটা পরিতি সত্য যে, ‘আত্মার শক্তি মানুষের সকল শক্তির উৎস’। মানুষের মনোজগতের প্রবণতাসমূহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়-যারা সত্য বিশ্বাস করে, আত্মার শক্তিতে আস্থাশীল, আত্মাকে পরিশুদ্ধ রাখে এবং মহান প্রভুর সন্তুষ্টি পাওয়ার আশা করে, তাঁর অধীনস্ততা স্বীকার করে নেয় এবং নিজের ধর্মদর্শনে অটল থাকে, তাদের দ্বারা খুব কমই অন্যায়, অবিচার, হানাহানি সংঘটিত হয়। বাস্তবে অস্বীকার করা যাবে না, ধর্ম প্রত্য বা পরোভাবে সমাজ জীবনে নানা ধরনের সামাজিক রীতি ব্যবস্থাকে (ঝড়পরধষ ঙৎফবৎ) পরিচালনা করে সমাজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে। সমাজ কাঠামোর পূর্ণ প্রকাশ রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার অনুষ্ঠানে। মানব জীবনের সাথে ধর্মের সম্পর্ক নিবিড়। ধর্ম মানব জীবনের সকল ক্রিয়াকর্মের সফলতা এনে দেয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করে। ইসলাম শুধু মানুষের মনোজগতের নিয়ন্ত্রণের দিক দর্শন নয়; বরং সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক জীবনের একটি সফল দর্শন। ইসলাম বিশ্বের সর্বেেত্র পারস্পরিক গ্রন্থিবদ্ধতা ও সামাজিক সংহতির একটি উত্তম পন্থা। ইসলাম সর্বজন স্বীকৃত পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান (ঈড়সঢ়ষবঃব পড়ফব ড়ভ ষরভব)।
যা হোক যেহেতু ধর্ম মানুষের প্রতিটি ক্রিয়াকর্মের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রাখে এবং একে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রণ করে, তাই আর মানুষের পে ধর্মকে উপো করা সম্ভব নয়। আজকের সমাজের সকল অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, নির্যাতন, অনিয়ম প্রভৃতি অপকর্মকে চির ধ্বংস করার অঙ্গিকার নিয়ে প্রতিটি মানব সন্তানের উচিৎ নিজ ধর্মের অনুশাসনের প্রতি দৃঢ় আনুগত্য স্বীকার করা। স্মরণ রাখতে হবে, একমাত্র ধর্মই পারে মানব সমাজে সুখ-শান্তি, নিয়ম-শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে। তাই সমাজের প্রতিটি স্তম্ভে আজ ধর্মের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
সকল সৃষ্টির মধ্যে মানুষই সর্বোত্তম, সুন্দর ও বিবেকবোধ সম্পন্ন। বিবেক কখনো খণ্ডিত বিষয়ে আস্থাশীল হতে পারে না, পারিতৃপ্তিও পেতে পারে না। মানব জীবনের পূর্ণ বিকাশের জন্যে দরকার বিশ্বাস এবং স্থিতিশীল আস্থা। বিশ্বাসের এই স্থিতিশীলতা ও পূর্ণত্যের জন্যে মানুষকে সন্ধান করতে হবে এক পূর্ণাঙ্গ আদর্শ-জীবন বিধানের। যা শুধু কিছু সনাতন বিশ্বাসের গণ্ডীবদ্ধ চৌহদ্দিতে জীবনের শুদ্ধতা অশুদ্ধতাকে সীমাবদ্ধ করবে না। বাতলে দেবে জীবনের পূর্ণ বিকাশের পথ। আল্লাহ বলেন-‘আমি আজ তোমাদের জন্যে তোমাদের জীবন ব্যবস্থাকে পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের নেয়ামতকে পরিপূর্ণ করে দিলাম আর ইসলামকে তোমাদের দীন বা জীবন ব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করলাম’। অধিকাংশ ধর্মেরই মূলকথা সত্য সুন্দর ও কল্যাণের আরাধনা। কিন্তু জীবন একটা বিশাল জিনিস। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষকে নানান জটিলতা ও বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। এখানে শুধু নীতি কথার বোধ-বিশ্বাস মানুষের প্রতিযোগী ও উত্তেজিত প্রবণতার সমাধানে সক্রিয় ভুমিকা রাখতে পারে না। সেজন্যেই দরকার এসব সূক্ষ্ম জটিলতার বাক অতিক্রমণের সুস্পষ্ট নির্দেশনা। ইসলাম মানুষের সামনে তা উপস্থাপন করেছে। শুধু সৌন্দর্য ও কল্যাণের আরাধনাই নয়, সে পথে কিভাবে জীবনকে গড়ে তুলতে হবে তাও ইসলামে সুস্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয়েছে। ইসলাম সুস্পষ্ট সত্য বিরোধিতাকে ঘৃণা করে। সকল সত্যান্বেষণকে সমর্থন করে। ইসলাম সকল সত্যান্বেষীকে আকর্ষণ করে। জীবনের পূর্ণ বিকাশের জন্যে ধর্মের গুরুত্ব যেমন অপরিহার্য, তেমনি সকল সত্যান্বেষীর উচিত জীবনের জন্যে ধর্ম ও বিধানের পূর্ণাঙ্গ পথ নির্দেশকেই গ্রহণ করা।


Available tags : জীবন ধর্ম সংস্কৃতি

View: 287 Post comments (0) Bookmark and Share