চিন্তা, বিবেক ও রাষ্ট্র
তখনও মানবাধিকার সংক্রান্ত কোন ঘোষণা বা সনদ জাতিসংঘে গৃহীত হয়নি, সেই ১৯৪৬ সালের কথা। কিন্তু সেই বছর জাতিসংঘের প্রথম সাধারণ অধিবেশনে পাশ হোল ৫৯(১) ঘোষণা, "তথ্যের স্বাধীনতা মৌলিক মানবিক অধিকার এবং ... অন্য সকল স্বাধীনতা এই পরশপাথরে পবিত্র"। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯(১) অনুচ্ছেদ বলছে, ''চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল"।
কিন্তু 'বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার" এবং "সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বাংলাদেশের সংবিধানে শর্ত সাপেক্ষে দেওয়া হয়েছে। যেমন, ''রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্র সমুহের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃংখলা শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তি সঙ্গত বাধা নিষেধ সাপেক্ষে'' সেই অধিকার দেওয়া হয়েছে। এইসকল শর্তের ব্যাখা ও সীমা কতোটা বিস্তৃত সেটা অস্পষ্ট বলে বাংলাদেশের সংবিধানকে গণতান্ত্রিক বলা যাবে না।
এই অভাবের পরেও যা আছে তার প্রয়োগ কিভাবে হচ্ছে এবং এই অভাব কাটিয়ে তোলার নীতি ও কৌশল কি হবে সেই সকল বিষয় নিয়েই এই পাতা...।
ফিলিস্তিনি জনগণের লড়াই

ফিলিস্তিন। সাম্রাজ্যবাদ, ইয়াহুদিবাদের (zionism) ও পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার বিরুদ্ধে দুনিয়ার সকল নিপীড়িত জনগণের লড়াইয়ের প্রতীক। বাংলাদেশের মুক্তিকামি জনগণকে পরিষ্কার বুঝতে হবে এই লড়াই ইহুদি-নাসারার বিরুদ্ধে মুসলমানদের লড়াই নয়, বরং ইনসাফ কায়েমের জন্য দুনিয়ার সকল জনগোষ্ঠীকে সঠিক নীতি ও কৌশলের আলোকে সকল প্রকার জুলুমবাজি, জালিম সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একত্রিত করে পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার বিলয় সাধন এই লড়াইয়ের উদ্দেশ্য।
আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও জনগণ
বাংলাদেশ দুনিয়ায় নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে কিনা সেটা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সম্পর্ক মোকাবিলা ও মীমাংসা করবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কূটনীতি, রাজনৈতিক বিচক্ষণতা, বিশ্বপুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার গতি প্রকৃতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা এবং তার আলোকে নীতি ও কৌশল রচনা। বিদ্যমান বিশ্বব্যবস্থায় কি সম্ভব এবং কি অসম্ভব সে সম্পর্কে সম্যক ধারণা ও দূরদৃষ্টি থাকা চাই। এই জায়গাগুলো পরিচ্ছন্ন করতে পারলে প্রতিবেশীদের সাথে আমাদের সম্পর্ক রচনা সহজ হবে।
বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে লড়াই করে স্বাধীন হয়েছে। ফলে নির্যাতীত ও নিপীড়িত জাতিসত্তার প্রতি বাংলাদেশের জনগণের সমবেদনা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। অন্যদিকে রাষ্ট্র মাত্রই অন্য রাষ্ট্রের শত্রু--তথাকথিত মিত্র রাষ্ট্র বলে কোন রাষ্ট্র থাকতে পারে না, তবে সেটা বড় জোর কূটনীতির ভাষা হতে পারে। অথচ, অন্যদিকে আবার, উপমহাদেশের শোষিত নির্যাতীত নিপীড়িত জনগণের সাথে মৈত্রীই এই উপমহাদেশে জনগণের মুক্তির প্রধান ও একমাত্র শর্ত। সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়তে হলে এই ঐক্য আমাদের রচনা করতেই হবে।
এই দিকগুলো মনে রেখে এই পাতায় আমরা আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও রাজ্যের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এবং উপমহাদেশে জনগণের গণতান্ত্রিক লড়াই সংগ্রামের খবরাখবর এবং বিশ্লেষণ চিন্তার পাঠকদের জন্য তুলে ধরব।
ভাসানী, রবুবিয়াত ও নতুন বিপ্লবী রাজনীতি

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে বাংলাদেশের উদয়, বেড়ে ওঠার ইতিহাস এবং উপমহাদেশের জনগনের লড়াই সংগ্রাম থেকে যেভাবে মুছে ফেলা হয়েছে সে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। বাংলাদেশে বিপ্লবী রাজনীতির পুনর্গঠনের প্রশ্ন মওলানা ভাসানীকে নতুন ভাবে জানা, পড়া ও চর্চায় নিয়ে যাবার ওপর নির্ভরশীল। এই পরিপ্রেক্ষিত মনে রেখে সম্প্রতি চিন্তা মওলানা ভাসানী সম্পর্কে যে কয়েকটি লেখা প্রকাশ করেছে তা ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়।
মওলানা বাংলার পরিবেশ আন্দোলনের প্রাণপুরুষ। ধর্ম, বৈপ্লবিকতা, প্রাণ ও পরিবেশ রক্ষার প্রশ্ন অসাধারণ তাৎপর্য নিয়ে তাঁর মধ্যে যে জীবন্ত তৎপরতা নিয়ে উঠে এসেছে তার তুলনা মেলা ভার। তাকে ম্মরণ না করে বাংলাদেশে তো অবশ্যই, কোনো পরিবেশ আন্দোলনের কথা ভাবাই যায় না। মওলানার ফারাক্কা মিছিলের তাৎপর্য—বিশেষত তাঁর পরিবেশবাদী মর্মের দরজা খুলতে হলে তার মধ্যে নতুন বিপ্লবী রাজনীতির যে সম্ভাবনা আমরা লক্ষ করি তার হাতলটা ধরার দরকার আছে। অন্যদিকে এটাও বোঝা দরকার, কেন ফারাক্কাবিরোধী সংগ্রাম বাংলাদেশে প্রধান পরিবেশবাদী সংগ্রাম হিশাবে গড়ে উঠতে ব্যর্থ হোল। উপমহাদেশে গরিব, নিপীড়িত, শোষিত ও বঞ্চিত জনগণের লড়াকু রাজনীতি না হয়ে মওলানার রাজনীতি কেন বাংলাদেশের ভারতবিরোধী সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সঙ্গে সহাবস্থানের কারণে ভারতের শাসক ও শোষক শ্রেণী সহ উপমহাদেশের সকল শাসক ও শোষকদের বিরুদ্ধে গণবিপ্লবী রূপ পরিগ্রহ করতে পারলো না।
মওলানা ভাসানীকে নতুন করে পাঠ ও পর্যালোচনার জন্য এই পাতা।
প্রতিরোধ ও গণসংগ্রাম
গণআন্দোলন ও প্রতিরোধের অভিমুখ, খবরাখবর এবং সম্ভাব্য গতিপ্রক্রিয়া তুলে ধরতে এই পাতার আয়োজন
- চতুর্থ সংশোধনীতে হারানো ক্ষমতা সামরিক আইনে ফিরে পাওয়ার কথা বেমালুম ভুলে গিয়েছে আদালত
- আইনের শাসনের তামাশা ও বাকশাল ‘দর্শনের’ জের
- আদালত অবমাননার বিচার ও দণ্ড প্রসঙ্গ
- ‘কমিউনিস্ট’দের রিমান্ড সমস্যা
- হাসিনার কনস্টিটিউশন সংশোধন: আসলে কি হতে যাচ্ছে?
- সংজ্ঞাহীন অবারিত এখতিয়ার বন্ধ হবে কবে?
- ছয় বছরেও চূড়ান্ত হয় নাই আদালত অবমাননা আইন