চিন্তা


চিন্তা ও তৎপরতার পত্রিকা

৪. মার্কসের 'পুঁজি': 'পণ্য' দিয়ে শুরু কেন?

৯ নভেম্বর, ২০১৯, চিন্তা পাঠচক্রের পঞ্চম বৈঠকে আমরা বসেছিলাম। দুই সপ্তাহের বিরতির পর আবার বসা। কার্ল মার্কসের ‘পুঁজি’ গ্রন্থ ধারাবাহিক পাঠ হিসেবে মার্কসের মুদ্রাতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। প্রধান আলোচক জনাব ফরহাদ মজহার।

পাঠের শুরুতে নতুন সদস্যদের জন্যে পূর্ব-পাঠের একটা সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরা হয়। এরপর থেকে যারা যোগ দেবেন তাদের অবশ্যই পাঠচক্রের নোটগুলো পাঠ করে আসতে হবে। প্রয়োজনে দুই একটি প্রসঙ্গ বারবার ফিরে আসতে পারে। কিন্তু দ্রুত এগিয়ে যাবার জন্য পাঠচক্রে যারা আন্তরিক ভাবে আগ্রহী তাঁদের নিজের চেষ্টা থাকতে হবে।

‘মুদ্রাতত্ত্ব’ নিয়ে আলোচনা শুরু হয় মার্কসের খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি মন্তব্য দিয়ে। এই মন্তব্য তিন (আরো পড়ূন)

কাশ্মিরের নারী: নারীমুক্তি ও স্বাধীনতা

কাশ্মির পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশে আমরা বেশ উদ্বিগ্ন। এমন নয় যে কাশ্মিরে এখন যা ঘটছে তা হঠাৎ করে হয়েছে বলেই এই উদ্বিগ্নতা। বিগত ৭০ বছর ধরে, ১৯৪৭ সালের পর থেকেই কাশ্মির নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে বিরোধ ও কাড়াকাড়ি তার বিরুদ্ধে কাশ্মিরের মানুষ সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে ভারত অধ্যুষিত জম্মু ও কাশ্মিরে ভারতীয় সৈন্যদের দমন-পীড়ন আমাদের সকলের জানা। এরই মধ্যে কাশ্মীরের জনগণ জীবন-যাপন করছেন; লেখা-পড়া, চাকুরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সব কিছুই হচ্ছে।

কিন্তু সম্প্রতি গত ৫ আগস্ট ২০১৯ ভারতের বিজেপি সরকার ভারতের সংবিধানের ৩৭০ এবং ৩৫এ রহিত করে জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এরপর তাদের ওপর দমন পীড়ন যেভাবে শুরু করেছে, তাতে বিশ্বের সব দ (আরো পড়ূন)

গোপাল ভাঁড়ও এভাবেই রাজার সমালোচনা করতেন

এই লেখাটি ৭ জুন ২০১৪ দৈনিক যুগান্তরে উপসম্পাদকীয় হিশাবে ছাপা হয়েছে। 'গোপাল ভাঁড়' রসিক সন্দেহ নাই, গোপাল শুধু হাসায় না, দার্শনিক আগ্রহও জাগায়।  কিন্তু গোপাল নিয়ে মনের মতো কিছু লেখা হোল না।  এই লেখাটি কবে লিখেছিলাম নিজেই ভুলে গিয়েছি। মোহাম্মদ রোমেল মনে করে দিয়েছেন এবং জোগাড়ও করে দিয়েছেন। রোমেলকে অশেষ ধন্যবাদ।

সাম্প্রতিক কালে 'ভাঁড়', বিশেষত রাজকীয় ভাঁড়ামির দার্শনিক তাৎপর্য নিয়ে নতুন করে ভাবা জরুরী হয়ে পড়েছে। রাজা যখন একই সঙ্গে শাসক,  আইনদাতা ও বিচারক তখন কিভাবে আপনি আপনার কথা পেশ করবেন?  আপনাকে তখন ভান করতে হবে, আপনি সিরিয় (আরো পড়ূন)

৩. মার্কসের 'পুঁজি': পণ্য

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯। মার্কসের ‘পুঁজি’ পড়বার চতুর্থ পাঠ শুরু হয়। মূল্যের রূপ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শেষ হয়। ‘পণ্যের ভতুড়ে কারবার’ নামক গুরুত্বপূর্ণ অংশ আপাতত বাদ রাখা হয়। কারন এর সঙ্গে ধর্মতত্ত্ব, দর্শন ও সমাজতত্ত্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তর্কবিতর্ক জড়িত। আগামিতে সেই বিষয়ে আলাদা ভাবে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  এখানে আলোচনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ পেশ করা হোল।

১. আবারও নতুন যাঁরা যোগ দিয়েছেন তাঁদের প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে ‘পুঁজি’ সম্পর্কে বাংলাদেশে বিভ্রান্তিকর নানান চলতি অনুমান নিয়ে আলোচনা ওঠে। বাংলাদেশের বামপন্থি শিবিরে ‘পুজি গঠন’ নামক একটি অনুমান বা ধারণা কাজ করে। সেটা অনেকটা এরকম যে (আরো পড়ূন)

২. মার্কসের 'পুঁজি': প্রাথমিক বিষয়াদি

২৪ আগস্ট, ২০১৯। চিন্তা পাঠচক্রের ‘পুঁজি’ পড়ার ছিল দ্বিতীয় পাঠ। প্রধান আলোচক ছিলেন ফরহাদ মজহার। ‘পণ্য’ নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, এই ক্লাস ছিল তারই ধারাবাহিকতা। পাঠ শুরুর আগে ‘পুঁজি’ পাঠের ভূমিকা হিশাবে কিছু বিষয় আলোচনা করা হয়।

১. ‘চিন্তা পাঠচক্রের ‘পুঁজি’ পাঠের ক্লাস সকলের জন্যে। যারা অর্থনীতি নিয়ে পড়েছেন কিম্বা পড়েন নাই তাতে কিছু আসে যায় না। আগ্রহ এবং নিয়মিত থাকার চেষ্টাই প্রধান। আমাদের তরুণ সমাজের জন্যে, যাদের কার্ল মার্কস সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা রয়ে গেছে। সেসব ভুল ধারণা থেকে মুক্ত হয়ে মার্কসের ‘পুঁজি’ গ্রন্থটি নিষ্ঠা ও মনোযোগের সঙ্গে পড়বার আগ্রহ তৈরির জন্যই এই উদ (আরো পড়ূন)

১. মার্কসের 'পুঁজি': প্রাথমিক বিষয়াদি

[এই লেখাটি গত ১৭ আগস্ট, শনিবার চিন্তা পাঠচক্রে ‘পুঁজি’ বইটি পাঠের পরিপ্রেক্ষিতে ফরহাদ মজহারের আলোচনার ভিত্তিতে লেখা। আলোচনায় আমার কাছে যে কথাগুলো গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে তুলে দিচ্ছি। এটি চলবে। অন্যদের গুরুত্বপূর্ণ কোন পয়েন্ট বা প্রশ্ন  থাকলে আশা করি যোগ করবেন।  ‘পণ্য’ নিয়ে সরাসরি আলোচনা আরেকটি পোস্টে পেশ করা হবে]

১. সতেরো অগাস্টে পাঠচক্রে নির্ধারিত আলোচনার বিষয় ছিল পুঁজি গ্রন্থে বিধৃত মার্কসের ‘পণ্য’। গ্রন্থের প্রথম কয়েক পাতা পড়া এবং বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে অন্যদের পড়তে উৎসাহিত করা ছিল উদ্দেশ্য।

‘পণ্য’ নিয়ে আলোচনা শুরুর আগে ফরহাদ মজহার‘পুঁজি’ সম্পর্কে আমাদের (আরো পড়ূন)

জম্মু গণহত্যা: স্মৃতির আড়ালে চলে যাওয়া ইতিহাস

কাশ্মীর সমস্যা, কাশ্মীরিদের উপর নির্যাতন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সময় আবশ্যিকভাবেই কাশ্মীরি পণ্ডিতদের হত্যা ও বিতাড়নের প্রসঙ্গ উঠে আসে। ১৯৯০ সালে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপর চলা নির্যাতন এবং কাশ্মীর থেকে তাঁদের বিতাড়ন অবশ্যই ঘৃণিত ও চরম নিন্দনীয়। কিন্তু ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে জম্মুতে সংঘটিত লক্ষ গুণ ভয়াবহ মুসলিম গণহত্যার নৃশংসতা ইতিহাসের আড়ালেই রয়ে যায়, রেখে দেওয়া হয়।

পেক্টা সান্ট সারভেন্ডা (Pacta Sunt Servanda) হল আন্তর্জাতিক দেওয়ানি আইনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নীতি। ল্যাটিন ভাষায় লিখিত বাক্যটির মর্মার্থ হল, দুটি পক্ষ একে অপরের সঙ্গে চুক্ (আরো পড়ূন)

দুই: তুখমি রক্ষায় তাজিক নারী

মধ্য এশিয়ার দেশ তাজিকিস্তানে মানুষের সংখ্যা খুব কম, মাত্র ৭৫ লাখ, তাদের দেশের আয়তন ১৪৩,১০০ বর্গ কিলোমিটার। তুলনায় বাংলাদেশের আয়তন ১৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার অথচ জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। অর্থাৎ প্রায় একই সমান আয়তনে তাজিকিস্তানে ১৭ গুন কম মানুষের বাস। শুধু বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরেই প্রায় ২ কোটি মানুষ থাকে। তাজিকিস্তানে উঁচু পর্বত থেকে শুরু করে নিচে সমতল ভূমি – তার মানে এই সব অঞ্চলে যতো রকম ফসলের বৈচিত্র্য পাওয়া যাওয়ার কথা তাদের কাছে সবই ছিল এককালে, এখন অনেক কিছু হারিয়ে গিয়েও আছে। তাজিকিস্তান বিশ্বের শুষ্ক অঞ্চলের অন্যতম, তাই শুষ্ক অঞ্চলের ফসল এখানকার কৃষির প্রধান বৈশিষ্ট্য।

তাজিকিস্তান মূলত কৃষি প্রধান দেশ। কিন্তু পাহাড়ি। উঁচু পর (আরো পড়ূন)

এক: তাজিকিস্তানে তাজিকদের সঙ্গে

২০ জুন, ২০১৯ তারিখে খুব ভোরে প্রায় সাড়ে তিনটায় টার্কিস এয়ারলাইনের বিমানে করে দুসাম্বে এয়ারপোর্টে পৌঁছালাম তখন সূর্য ওঠে নি। একটু আলো-আঁধারিতে নামলাম। ইস্তাম্বুলে দীর্ঘ যাত্রা বিরতি খুব আরামদায়ক ছিল না। আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টগুলো দিনে দিনে সাধারণ যাত্রীদের জন্য কষ্টদায়ক হয়ে উঠছে। ব্রান্ডের ডিউটি ফ্রী শপ নানান বিলাস সামগ্রীতে ভরা অথচ সাধারণ যাত্রীদের খাবার জন্য ভাল কোন ব্যবস্থা নাই। এই রুটটি প্রবাসী শ্রমিকদের রাস্তা, ভাবছিলাম যাতায়াতে তাদের কত না কষ্ট হয়। ইস্তাম্বুলে আমার নিজেরও খুব কষ্ট হয়েছে দীর্ঘ আট ঘন্টা বসে থাকতে।

দুসাম্বে এয়ারপোর্ট ছোট, চার পাশে পাহাড়ের সারি, ভোরের আলোতে সুন্দর দেখাচ্ছিল। কিন্তু পাহাড়গুলোকে কেমন যেন ন্যাড়া মনে হচ (আরো পড়ূন)

কৃষক কন্যা নারী শ্রমিক: অর্থনৈতিক ও শ্রেণী বৈষম্য থেকে বেরুতে পারে নি

আজকের আন্তর্জাতিক নারী দিবস শ্রমিক নারীর সংগ্রামের ফসল। লাল সালাম। আজ নারী অনেক এগিয়েছে, সমাজের সর্ব স্তরে নারীকে দেখা যাচ্ছে; তারা সবাই মিলে পালন করছেন মার্চের ৮ তারিখ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই দিনটি একসময় ছিল শুধু নারী সংগঠনের এবং নারী শ্রমিক সংগঠনের নিজস্ব পালনের দিন। এখন তা হয় রাষ্ট্রীয় ভাবে, যেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকেন এবং বক্তৃতা করেন। জাতিসংঘ ঘোষিত দিনের মধ্যে অন্যতম প্রধান দিন ৮ই মার্চ। বেগুনি শাড়ী বা বেগুনি পোষাক পরবার, নারীদের পরস্পরের প্রতি সংহতি প্রকাশের দিন।

কিন্তু এর ইতিহাস কতজন মনে রাখি? মনে হয় সকলের আর মনে রাখার প্রয়োজন হয় না, কারণ নারী দিবস এখন ‘বুর্জোয়া’ নারীদের ‘মুক্তি’ বা &l (আরো পড়ূন)