চিন্তা


চিন্তা ও তৎপরতার পত্রিকা

২. মার্কসের 'পুঁজি': প্রাথমিক বিষয়াদি

২৪ আগস্ট, ২০১৯। চিন্তা পাঠচক্রের ‘পুঁজি’ পড়ার ছিল দ্বিতীয় পাঠ। প্রধান আলোচক ছিলেন ফরহাদ মজহার। ‘পণ্য’ নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, এই ক্লাস ছিল তারই ধারাবাহিকতা। পাঠ শুরুর আগে ‘পুঁজি’ পাঠের ভূমিকা হিশাবে কিছু বিষয় আলোচনা করা হয়।

১. ‘চিন্তা পাঠচক্রের ‘পুঁজি’ পাঠের ক্লাস সকলের জন্যে। যারা অর্থনীতি নিয়ে পড়েছেন কিম্বা পড়েন নাই তাতে কিছু আসে যায় না। আগ্রহ এবং নিয়মিত থাকার চেষ্টাই প্রধান। আমাদের তরুণ সমাজের জন্যে, যাদের কার্ল মার্কস সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা রয়ে গেছে। সেসব ভুল ধারণা থেকে মুক্ত হয়ে মার্কসের ‘পুঁজি’ গ্রন্থটি নিষ্ঠা ও মনোযোগের সঙ্গে পড়বার আগ্রহ তৈরির জন্যই এই উদ (আরো পড়ূন)

১. মার্কসের 'পুঁজি': প্রাথমিক বিষয়াদি

[এই লেখাটি গত ১৭ আগস্ট, শনিবার চিন্তা পাঠচক্রে ‘পুঁজি’ বইটি পাঠের পরিপ্রেক্ষিতে ফরহাদ মজহারের আলোচনার ভিত্তিতে লেখা। আলোচনায় আমার কাছে যে কথাগুলো গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে তুলে দিচ্ছি। এটি চলবে। অন্যদের গুরুত্বপূর্ণ কোন পয়েন্ট বা প্রশ্ন  থাকলে আশা করি যোগ করবেন।  ‘পণ্য’ নিয়ে সরাসরি আলোচনা আরেকটি পোস্টে পেশ করা হবে]

১. সতেরো অগাস্টে পাঠচক্রে নির্ধারিত আলোচনার বিষয় ছিল পুঁজি গ্রন্থে বিধৃত মার্কসের ‘পণ্য’। গ্রন্থের প্রথম কয়েক পাতা পড়া এবং বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে অন্যদের পড়তে উৎসাহিত করা ছিল উদ্দেশ্য।

‘পণ্য’ নিয়ে আলোচনা শুরুর আগে ফরহাদ মজহার‘পুঁজি’ সম্পর্কে আমাদের (আরো পড়ূন)

জম্মু গণহত্যা: স্মৃতির আড়ালে চলে যাওয়া ইতিহাস

কাশ্মীর সমস্যা, কাশ্মীরিদের উপর নির্যাতন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সময় আবশ্যিকভাবেই কাশ্মীরি পণ্ডিতদের হত্যা ও বিতাড়নের প্রসঙ্গ উঠে আসে। ১৯৯০ সালে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপর চলা নির্যাতন এবং কাশ্মীর থেকে তাঁদের বিতাড়ন অবশ্যই ঘৃণিত ও চরম নিন্দনীয়। কিন্তু ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে জম্মুতে সংঘটিত লক্ষ গুণ ভয়াবহ মুসলিম গণহত্যার নৃশংসতা ইতিহাসের আড়ালেই রয়ে যায়, রেখে দেওয়া হয়।

পেক্টা সান্ট সারভেন্ডা (Pacta Sunt Servanda) হল আন্তর্জাতিক দেওয়ানি আইনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নীতি। ল্যাটিন ভাষায় লিখিত বাক্যটির মর্মার্থ হল, দুটি পক্ষ একে অপরের সঙ্গে চুক্ (আরো পড়ূন)

দুই: তুখমি রক্ষায় তাজিক নারী

মধ্য এশিয়ার দেশ তাজিকিস্তানে মানুষের সংখ্যা খুব কম, মাত্র ৭৫ লাখ, তাদের দেশের আয়তন ১৪৩,১০০ বর্গ কিলোমিটার। তুলনায় বাংলাদেশের আয়তন ১৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার অথচ জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। অর্থাৎ প্রায় একই সমান আয়তনে তাজিকিস্তানে ১৭ গুন কম মানুষের বাস। শুধু বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরেই প্রায় ২ কোটি মানুষ থাকে। তাজিকিস্তানে উঁচু পর্বত থেকে শুরু করে নিচে সমতল ভূমি – তার মানে এই সব অঞ্চলে যতো রকম ফসলের বৈচিত্র্য পাওয়া যাওয়ার কথা তাদের কাছে সবই ছিল এককালে, এখন অনেক কিছু হারিয়ে গিয়েও আছে। তাজিকিস্তান বিশ্বের শুষ্ক অঞ্চলের অন্যতম, তাই শুষ্ক অঞ্চলের ফসল এখানকার কৃষির প্রধান বৈশিষ্ট্য।

তাজিকিস্তান মূলত কৃষি প্রধান দেশ। কিন্তু পাহাড়ি। উঁচু পর (আরো পড়ূন)

এক: তাজিকিস্তানে তাজিকদের সঙ্গে

২০ জুন, ২০১৯ তারিখে খুব ভোরে প্রায় সাড়ে তিনটায় টার্কিস এয়ারলাইনের বিমানে করে দুসাম্বে এয়ারপোর্টে পৌঁছালাম তখন সূর্য ওঠে নি। একটু আলো-আঁধারিতে নামলাম। ইস্তাম্বুলে দীর্ঘ যাত্রা বিরতি খুব আরামদায়ক ছিল না। আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টগুলো দিনে দিনে সাধারণ যাত্রীদের জন্য কষ্টদায়ক হয়ে উঠছে। ব্রান্ডের ডিউটি ফ্রী শপ নানান বিলাস সামগ্রীতে ভরা অথচ সাধারণ যাত্রীদের খাবার জন্য ভাল কোন ব্যবস্থা নাই। এই রুটটি প্রবাসী শ্রমিকদের রাস্তা, ভাবছিলাম যাতায়াতে তাদের কত না কষ্ট হয়। ইস্তাম্বুলে আমার নিজেরও খুব কষ্ট হয়েছে দীর্ঘ আট ঘন্টা বসে থাকতে।

দুসাম্বে এয়ারপোর্ট ছোট, চার পাশে পাহাড়ের সারি, ভোরের আলোতে সুন্দর দেখাচ্ছিল। কিন্তু পাহাড়গুলোকে কেমন যেন ন্যাড়া মনে হচ (আরো পড়ূন)

কৃষক কন্যা নারী শ্রমিক: অর্থনৈতিক ও শ্রেণী বৈষম্য থেকে বেরুতে পারে নি

আজকের আন্তর্জাতিক নারী দিবস শ্রমিক নারীর সংগ্রামের ফসল। লাল সালাম। আজ নারী অনেক এগিয়েছে, সমাজের সর্ব স্তরে নারীকে দেখা যাচ্ছে; তারা সবাই মিলে পালন করছেন মার্চের ৮ তারিখ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই দিনটি একসময় ছিল শুধু নারী সংগঠনের এবং নারী শ্রমিক সংগঠনের নিজস্ব পালনের দিন। এখন তা হয় রাষ্ট্রীয় ভাবে, যেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকেন এবং বক্তৃতা করেন। জাতিসংঘ ঘোষিত দিনের মধ্যে অন্যতম প্রধান দিন ৮ই মার্চ। বেগুনি শাড়ী বা বেগুনি পোষাক পরবার, নারীদের পরস্পরের প্রতি সংহতি প্রকাশের দিন।

কিন্তু এর ইতিহাস কতজন মনে রাখি? মনে হয় সকলের আর মনে রাখার প্রয়োজন হয় না, কারণ নারী দিবস এখন ‘বুর্জোয়া’ নারীদের ‘মুক্তি’ বা &l (আরো পড়ূন)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ নারী নেতৃত্ব

ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ সকল ঐতিহাসিক আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা মিছিলে মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছেন, আন্দোলন করেছেন, কিন্তু তাঁদের স্বীকৃতি দিতে ইতিহাস সবসময়ই কার্পণ্য করেছে। কিন্তু এবার ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (বা ইংরেজি সংক্ষিপ্ত নাম ডাকসু) নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ছাত্রীরা যে ভূমিকা রেখেছেন, তা সবার নজর কেড়েছে। তাদের লাল সালাম জানাই। নারী আন্দোলনের একজন কর্মী হিশেবে আমি গর্ব বোধ করছি। আর একটি ইতিহাস রচনা হচ্ছে যেখানে নারীর অবদান খোঁজার জন্যে হারিকেন নিয়ে বেরুতে হবে না; তাদের অবদান জ্বলজ্বল করে সবার চোখের সামনে ফুটে উঠেছে। এটা ২০১৯ সাল, এখন নারীর অবদান ঢেকে (আরো পড়ূন)

২. গুগি ওয়া থিয়োঙ্গো: নয়া-উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সাহিত্য  

শুধু সাম্রাজ্যবাদীর মুখোশ উন্মোচন নয়, নয়া-উপনিবেশ অধিকৃত দেশগুলোর স্বৈরশাসকদের মুখোশও উন্মোচিত হয় নগুগি ওয়া থিয়াঙ্গোর উপন্যাসে। ২০০৬ সালে প্রকাশিত ‘উইজার্ড অফ দ্যা ক্রো’-কে সমালোচকরা চিহ্নিত করেছেন ‘অ্যান এপিক স্যাটায়ার অফ নিও কলোনিয়ালিজাম’ নামে; উপন্যাসটা ঠিক তেমন ধাঁচেরই একটা কালজয়ী উপন্যাস। ৭৬৬ পৃষ্ঠার বিশাল কাহিনীটি যাদু বাস্তবতার আদলে অত্যন্ত রসালোভাবে একজন নয়া ঔপনিবেশিক স্বৈরশাসক এবং তাকে বেষ্টন করে রাখা চাটুকার মন্ত্রী, অমাত্য আর উপদেষ্টাদের নিয়ে নির্মাণ করেছেন থিয়োঙ্গো। তার কালজয়ী এই উপন্যাস। ‘যে বছর আবুরিরিয়া-র স্বৈরাচারী শাসক পৃথিবীর সর্বোচ্চতম টাওয়ার বানানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করলেন, কামিতি নামে এক হত (আরো পড়ূন)

১. গুগি ওয়া থিয়োঙ্গো: নয়া-উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সাহিত্য

১৯৯৬ সালে ভারতের হায়দ্রাবাদের নিজাম মহাবিদ্যলয়ে কেনিয়ার নাট্যকার,ঔপন্যাসিক এবং প্রাবন্ধিক গুগি ওয়া থিয়োঙ্গো  ( Ngũg wa Thiong'o) যখন নয়া ঔপনিবেশবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আফ্রিকার জাতীয় আন্দোলনগুলো নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তখন ইদি আমিন, গাদ্দাফি এবং সাদ্দাম হোসেন সম্পর্কে তার অভিমত জানাতে চাওয়া হয়। উত্তরে বলেন “ আমার কাছে কি ধরণের উত্তর আশা করছেন তা আমি জানি। দুচার কথায় এর জবাব দেয়া কঠিন। তবে একটা কথা আমি জোর দিয়ে বলতে চাই -- আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারজাত মৌলবাদ অন্য সমস্ত রকম মৌলবাদের চেয়ে বিপজ্জনক”। মৌলবাদের সংজ্ঞার পরিধি ব্যাপ্তির কারণে লেখক থিয়োঙ্গো যথার্থভাবে সব থেকে বিপজ্জনক মৌলবাদকে সনাক্ত করতে যে পেরেছেন সেই বিষয়ে কো (আরো পড়ূন)

উপসাগরীয় দুই শাহজাদা'র কাহিনী

 সাংবাদিক জামাল খশগগীর হত্যার ঘটনা ৩৩ বছর বয়সী সউদী শাহজাদা মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) ক্যারিয়ারে কি ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ এবং পর্যবেক্ষকরা নানা আন্দাজ পেশ করছেন। ঠিক সেই সময় তার চেয়ে ২৫ বছরের বড় আরেক শাহজাদা একটু দূরে থেকে সব দেখছেন এবং নিশ্চয়ই একটু অস্বস্তি বোধ করছেন।

এমবিএসের সঙ্গে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ইস্যুতে জড়িয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাহজাদা মোহাম্মদ বিন জায়েদ (এমবিজেড)। এর মধ্যে দুটি হচ্ছে, ইয়েমেন যুদ্ধ এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য রাষ্ট্র কাতারের বিরুদ্ধে আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে অবরোধ আরোপ।

এই দুটি বিষয়ের ফল বেশি সুখকর ছিল না। ইয়েমেন য (আরো পড়ূন)