নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশান ফ্লাশ আউট’ – অর্থাৎ হেফাজতিদের শহর থেকে টিয়ারগ্যাস ছুঁড়ে গুলি মেরে বোমা ফাটিয়ে যে ভাবেই হোক তাড়িয়ে দিতে হবে। শহর সাফ করতে হবে। শহর ধনি ও বড়লোকদের জায়গা। ভদ্রলোকদের নগর। সুশীলদের রাজধানী। যাদের পাহারা ও রক্ষা করবার দায়িত্ব র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীও মজুদ। পুলিশের পক্ষ থেকে ওই অভিযানের নাম দেয়া হয়েছিল ‘অপারেশন সিকিউরড শাপলা’, অন্যদিকে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) একই অপারেশনের নাম দেয় ‘অপারেশন ক্যাপচার শাপলা’। চরিত্রের দিক থেকে এটা ছিল মূলত একটি সামরিক অভিযান। নিজ দেশের নিরস্ত্র নাগরিকদের বিরুদ্ধে সাঁজোয়া যান ও মারণাস্ত্রসহ ঝাঁপিয়ে পড়া।
হেফাজতের আবির্ভাব এবং তাদের ১৩ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে নিজ নিজ রুচি ও হিংসার মাত্রা অনুযায়ী রাজনীতির বিভিন্ন পক্ষ বিভিন্ন ভাষায় প্রতিপক্ষকে আক্রমণ এবং নিজ নিজ শ্রেণির পক্ষে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এর দ্বারা সমাজে শ্রেণি ও শক্তির চরিত্র আমরা কিছুটা শনাক্ত করতে পারছি। এর মধ্য দিয়ে সামগ্রিক ভাবে বাংলাদেশে বুদ্ধিবৃত্তিক স্তর সম্পর্কেও ধারণা করা যায়। আসলে বাংলাদেশে কী ঘটছে তা বুঝবার জন্য সঠিক তথ্যের চেয়ে প্রচার ও প্রপাগান্ডার দিকে অতি মাত্রায় ঝোঁক এবং বিশ্লেষণের চেয়েও নিজের বদ্ধমূল অনুমান ও মতের গোঁড়ামি নির্বিচারে উগরে দেবার মানসিকতাই প্রকট হয়ে আছে।
যথেষ্ট না হলেও বিভিন্ন শ্রেণিগুলোকে চেনার জন্য তাদের দাবিদাওয়াগুলো হলো প্রাথমিক উ
এক
এপ্রিলের ৮ তারিখে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রচার করে বিবিসি ওয়ার্ল্ড নিউজ যথারীতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংকটের সময় উদ্ধার করেছে। সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছিল হেফাজতে ইসলামের তেরো দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে। ছয়ই এপ্রিলে ঢাকা শহরের শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে হেফাজতে ইসলাম শুধু নিজেদের আবির্ভাবকেই স্পষ্ট করে তোলেনি, একই সঙ্গে তাদের ১৩ দফা সামনে নিয়ে এসে সরকার ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী সুশীলদের মহাবিড়ম্বনায় ফেলে দিয়েছে। তাছাড়া ঢাকার কূটনৈতিক মহলও নড়েচড়ে বসেছিল। হেফাজতের মহাসমাবেশে এতো লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটবে এটা কারো কল্পনার মধ্যেও ছিল না।
হেফাজতে ইসলাম ও তাদের ১৩
এক
হেফাজতে ইসলাম এপ্রিলের ৬ তারিখে ঢাকা শহরে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করে প্রশাসনের সঙ্গে ওয়াদা অনুযায়ী ঠিক ঠিক পাঁচটার সময় শেষ করে ফিরে গেছেন। ঢাকা শহরের মানুষ শাপলা চত্বরে এতো আলেম ওলামাদের একসাথে কখনো দেখে নি, তারা বিস্মিত। কত মানুষ জড়ো হয়েছিলেন তা নিয়ে সঠিকভাবে কোন পরিসংখ্যান না পাওয়া গেলেও সংখ্যাটা তাক লাগিয়ে দেয়ার মতোই ছিল। হেফাজতের এই লং মার্চ যেন না হতে পারে তার জন্য সরকার নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল; ঢাকাগামী সকল প্রকার যানবাহন বন্ধ করার পরও এতো মানুষ কি করে ঢাকায় এলো তা বিস্ময়ের ব্যাপার বটে।
হেফাজতের এই কর্মসুচী শেষ হয়েছে, তাঁরা নিজ নি
হেফাজতি ইসলামের ছয় এপ্রিলের সমাবেশ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে টান টান উত্তেজনা এবং আতংকের সাময়িক অবসান ঘটেছে। সাময়িক এ কারণে যে সমাজের বিরোধ যে-রাজনৈতিক রূপ লাভ করেছে তাতে এই টান টান অবস্থার পরিসমাপ্তি সহজে ঘটবে না। বরং হেফাজতে ইসলামের মধ্য দিয়ে নতুন একটি রাজনৈতিক শক্তির আবির্ভাব আমরা দেখলাম। যাদের সম্পর্কে সমাজের ধারণা খুবই অল্প। বিদ্যমান দ্বন্দ্ব-সংঘাতের বাস্তবতা ও চরিত্রের কারণে তারা তাদের ধর্মীয় দাবিকে রাজনৈতিক দাবি হিশাবে হাজির করতে সক্ষম হয়েছে। শহুরে ভদ্রলোক ও বিদ্যমান ব্যবস্থার সুবিধাভোগী শ্রেণি তাদের পশ্চাতপদ ও গণবিরোধী চিন্তাচেতনার আবর্জনা এরপরও ঘাঁটতে থাকবে। দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকবে তারা। বুঝতে চেষ্টা করবে না কেন ঘটনাটি ঘটল। এর আর্থ-
বাংলাদেশের চলতি রাজনীতির নিরিখে নাগরিক আন্দোলন কথাটার অর্থ পরিষ্কার করার বিশেষ জরুরত আছে। নাগরিক আন্দোলন বলে নানা ধরনের নাগরিক কমিটি এর আগে আমরা দেখেছি, এমন নামে আন্দোলন বা সংগঠন আমাদের দেশে নতুন নয়। এই সব আন্দোলনের বিচার করবার ক্ষেত্রে সঠিক মানদণ্ড কি হবে সে ব্যাপারেও আমরা বিশেষ ভাবনা চিন্তা করি নি। এতদিন এই সব নাগরিক আন্দোলনের চরিত্রের মধ্যে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে গণমানুষের স্বার্থের দিক থেকে দেখবার যে গাফিলতি ছিল তা আমাদের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কেন? করেছে কারণ ক্ষমতা চর্চার প্রশ্নে সাধারণ বা গ্রামের কৃষক বা ভিন্ন চিন্তার বা মতাদর্শের নাগরিক অধিকারের বেলায় ক্ষমতাশীল শ্রেণি বেহুঁশ থেকেছে, কিম্বা অস্বীকার করেছে। ক্ষমতাবানদের পলিটিক্
‘নাগরিক’ বা ‘নাগরিকতা’ আমাদের রাষ্ট্র কিম্বা সমাজচিন্তার গুরুত্বপূর্ণ কোন ধারণা নয়। মানবাধিকার নিয়েও আমরা কথা বলি এবং কাজও করি, কিন্তু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের সঙ্গে নাগরিক ও মানবিক অধিকারের সম্পর্ক ঠিক কোথায় এবং কিভাবে তারা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গাঠনিক ভিত্তি হিশাবে কাজ করে সেই সব বিষয়ে আমাদের সমাজে ভাবনা চিন্তার অভাব আছে। আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি, ফলে মুক্তিযুদ্ধ আমাদের কল্পনা ও আবগের প্রায় পুরোটাই দখল করে আছে। আমাদের বুদ্ধিবৃত্তির সাড়ে পনেরো আনা অংশ খরচ হয় স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিচারণে। কিন্তু পরাধীনতার হাত থেকে মুক্তির জন্য সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ করা আর নিজেদের একটি রাজনৈতিক জনগোষ্ঠি হিশাবে বিশ্বসভায় প্রতিষ
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান মানুষের প্রচুর ভালবাসা পেয়েছেন। ব্যক্তি হিশাবে এটা বিরল সৌভাগ্য। তবে তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর মূল্যায়ন রাজনৈতিক ভাবেই হওয়া উচিত। সেটা তাঁর মৃত্যুর পরপরই করতে হবে এমন কথা নাই। আমাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সেটা খাপ খাবে না। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লীগের নেতা নেত্রীদের যে সাংস্কৃতিক মান দেখি তুলনায় তাঁকে ফেরেশতা মনে হয়। হয়তো এই জন্য মানুষ তাঁকে প্রাণভরে দোয়া করেছে। জানাজায় বিপুল সংখ্যায় শরিক হয়েছে। তাঁর নিরীহ জীবন, অহিংস বাচনভঙ্গী ও শারিরীক অঙ্গভঙ্গীর শালীনতা বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষকে কাছে টেনেছে। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর এই ব্যক্তিগত গুণগুলোই সশব্দে জানান দিয়ে গিয়েছে।
ঘটনার শুরু ২০০১ সালে টুইন টাওয়ার ও পেন্টাগন হামলায়, যা ৯/১১ বলে পরিচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একে বিশেষ ধরনের ‘সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যা দেয় এবং তা নির্মূল করবার জন্য নতুন ধরণের যুদ্ধের সূচনা করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার জন্য ‘আল কায়েদা’কে দায়ী করে। বুশের নেতৃত্বে আমেরিকা আল-কায়েদার রাজনীতি ও হামলা মোকাবিলার যে নীতি গ্রহণ করে তার বৈশিষ্টগুলো হলোঃ
১. খ্রিশ্চান ইভানজেলিক ধারায় আল কায়েদা নির্মূলের যুদ্ধকে ইসলামের বিরুদ্ধে খ্রিশ্চান জগতের ক্রুসেড সাব্যস্ত করে লড়া।
২. “ওয়ার অন টেরর” বা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের ডাক দেয়া, এই ডাকের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন দেশের জনগণ ও রাষ্ট্রকে পক্ষে টানা। স
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘নিউকন’ ধারনাটির প্রবর্তন ঘটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সত্তর দশকের শুরুর দিকে, মাইকেল হ্যারিংটনের হাত ধরে। মাইকেল নিজেকে ‘সমাজতন্ত্রী’ বলে দাবি করলেও তাঁর রাজনীতি উদারনৈতিক মার্কিন গণতান্ত্রিক পরিমণ্ডল বা লিবারেলিজম থেকে আলাদা কিছু নয়। তিনি চান শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটাভুটির নিয়ম মেনে সমাজতন্ত্র কায়েম বা একধরণের সহনীয় পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই ধরণের লিবারেলদের সংখ্যা কম নয়। এই উদারনীতিবাদীরা ধর্ম নিরপেক্ষও বটে। কিন্তু সত্তর দশকের দিকে ভিয়েতনাম যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দেখা গেল এই উদারবাদী বা লিবারেলদের বিশাল একটি অংশ হঠাৎ ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে নির্মম মার্কিন যুদ্ধনীতি সমর্থন ক
1 2 3 > Last ›
- চতুর্থ সংশোধনীতে হারানো ক্ষমতা সামরিক আইনে ফিরে পাওয়ার কথা বেমালুম ভুলে গিয়েছে আদালত
- আইনের শাসনের তামাশা ও বাকশাল ‘দর্শনের’ জের
- আদালত অবমাননার বিচার ও দণ্ড প্রসঙ্গ
- ‘কমিউনিস্ট’দের রিমান্ড সমস্যা
- হাসিনার কনস্টিটিউশন সংশোধন: আসলে কি হতে যাচ্ছে?
- সংজ্ঞাহীন অবারিত এখতিয়ার বন্ধ হবে কবে?
- ছয় বছরেও চূড়ান্ত হয় নাই আদালত অবমাননা আইন
বাংলার ভাবসম্পদ
লালন ও ভাবান্দোলন
চিন্তা পাঠচক্র। প্রতি বৃহস্পতিবার। বিকাল পাঁচটায়
২২/১৩ খিলজি রোড। মোহাম্মদপুর ঢাকা - ১২০৭
Some printed issues are still available. write to editor@chintaa.com about old print issues.Be a FORUM MEMBER to participate in on-line discussions. Readers are always welcome to comment on any post or article.







