কবি আর কাব্য
এই পাতা কবি ও কাব্য নিয়ে, তবে 'চিন্তা'-র বিশেষ নজরদারি থাকবে বাংলা ভাষায় বিভিন্ন শ্রেণী কিভাবে কথা বলে, বলছে বা বলতে চাইছে, তার ওপর। নারী-পুরুষ নামক ভেদচিহ্ন কিভাবে এমনকি অতি নিষ্পাপ ও সজল প্রেমের কবিতাতেও পুরুষতান্ত্রিক রূপ ধারন করে-- সেইসব দিকও বাদ যাবে না, বলাই বাহুল্য। আমাদের খেয়াল বিশেষভাবে পড়বে বিদ্যমান বিশ্বব্যবস্থায় কর্পোরেশান, হিংস্র যুদ্ধ, মারণাস্ত্র ও মাদক ব্যবসা, গণতন্ত্রের নামে ফ্যাসিবাদ, 'মানবাধিকার' রক্ষার উসিলায় পরদেশ দখল ইত্যাদির বিরুদ্ধে কবি ও কাব্য কতোটা শক্তি নিয়ে দাঁড়াতে সক্ষম। সামাজিক কবি এবং তার কবিতা গণমানুষের এই সময়ের লড়াইয়ে কতোটা ভূমিকা রাখতে পারল এই প্রশ্ন কখনও স্পষ্ট কখন নীরবে মনে রেখে কবি ও কবিতা আমরা পাঠ করতে চাই। কিন্তু 'গণমানুষ' কথাটার তো কোন অর্থ নাই যদি না কবি বা কবিতা এই সময় মানুষের সম্ভাবনা বিকাশের ক্ষেত্রে কে শত্রু আর কে মিত্র তা নির্ণয়ে কোন কাজে না লাগে। আমরা কাব্য বা সাহিত্যকে আধুনিক/অনাধুনিক বা সময়ক্রম অনুযায়ী আধুনিক/মধ্যযুগীয় ইত্যাদি বিভাজনে বিভক্ত করতে চাই না। এখন--এই মুহূর্তের লড়াইয়ের কথা ভেবে এখনকার বা অতীতের সকল কবি ও কবিতাকে পড়াই আমাদের কাজ। আসুন এ আয়োজনে সহযাত্রী হই।
ভাষা, চিহ্ন ও সাহিত্য বিচার

ভাষার দর্শনের জায়গা থেকে সাহিত্যের বিচার করবার রেওয়াজ আমাদের নাই বললেই চলে। অথচ বাংলাভাষার ভাব বা দর্শনের অলিগলি চেনার জন্য ভাষা বা চিহ্নব্যবস্থা সংক্রান্ত শাস্ত্র ও দর্শনের যে বিপুল বিকাশ দুনিয়া জুড়ে ঘটেছে তাকে মাথায় রেখে বাংলা সাহিত্যকে আমরা নতুন করে পাঠ করতে পারি। এই পাতায় সেই চেষ্টা থাকবে। তবে আমরা দুই ধরনের বিপদ মাথায় রেখে কাজটি করতে চাই।
প্রথম বিপদটাকে আমরা সাধারণ ভাবে বলতে পারি ‘আঁতেলী’-র বিপদ। সন্দেহ নাই যে পাশ্চাত্য দর্শনে ভাষা, চিহ্ন ব্যবস্থা, অর্থের নিশ্চয়তা, ভাষার মধ্য দিয়ে সত্যাসত্য কায়েমের দাবি ইত্যাদি নিয়ে তুমুল তর্কাতর্কি চলছে। ফলে ফার্দিনন্দ দ্য স্যসিওর, রঁলা বার্থ, জাক দেরিদা, হুইৎঝেইনস্টাইন সহ বিস্তর ভিন-ভাষার দার্শনিক আমাদের দেশে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। সেটা ভাল। ছহি কাজ। মন্দ দিকটা হচ্ছে বদ হজমের। আমরা কথায় কথায় নাম আউড়াতে শিখেছি, আমাদের পড়তে হবে, বুঝতে হবে এবং মোকাবিলা করবার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
দুই নম্বর বিপদ হচ্ছে, হীনমন্যতার অসুখ। আমাদের ধারণা, ভাষা, চিহ্নব্যবস্থা বা ভাষার দর্শন নিয়ে বাংলা ভাষায় বুঝি কোন আলোচনা নাই। একমাত্র পাশ্চাত্যেই বুঝি এইসব কঠিন কঠিন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং হচ্ছে।
এটা ঠিক না। বাংলা ভাষায় এই সকল বিষয় নিয়ে অসাধারণ লেখালিখি আছে। যাকে আমরা ফকির লালন শাহের বরাতে ‘নদিয়ার ভাব’ বলি, তার গোড়ার প্রশ্নগুলো ভাষার প্রশ্ন নিয়েই। অন্যদিকে আরব ও আরবি ভাষা বা সাধারণ ভাবে ইসলাম প্রভাবান্বিত সংস্কৃতির বড়ো একটি বিবেচনা ভাষার বিচার। এর কারণ, কিভাবে কোরান শরিফ পড়তে হবে, কিভাবে অর্থ করতে হবে এই সকল মোলিক ধর্মতাত্ত্বিক প্রশ্ন এই সকল সমাজ ও সংস্কৃতির মধ্যে বারবারই গুরুতর সমস্যা হয়ে থেকেছে, এখনও আছে। যাঁরা ইমাম গাজ্জালীর ‘মেশকাতুল আনওয়ার’ পড়েছেন তাঁরা গাজ্জালির চিন্তায় বিস্মিত না হয়ে পারেন না।
আশা করি আমরা এই পাতায় এই বিষয় নিয়ে অনেক আলোচনার অবসর পাব।
চিনিয়ে দেওয়া, ধরিয়ে দেওয়া
বইপত্র, গল্প, উপন্যাস, কবিতা, সাহিত্য পত্রিকা ও ছোট কাগজ, ছবি, সিনেমা, নাটক, থিয়েটার, গান, নাচ ইত্যাদি যা কিছু ঘটছে চারদিকে -- দেশে কিম্ব বিদেশে -- তাকে পরিচত করানোর জন্য এই পাতা। পাঠককে ধরিয়ে দেবার একটা চেষ্টা থাকবে এই পাতায়। আমরা উল্লেখ করবো -- অনেক সময় হয়তো কড়া কথা সহ -- কারণ কাজটিকে মূল্যবান মনে করি; আবর্জনায় যেন ডুবে না যাই তার জন্যই এই প্রচেষ্টা।
বাংলার ভাবসম্পদঃ মনসা

মনসা কিভাবে বাংলার ভাবজগতকে অধিকার করে আছে এই পাতায় সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করব।
- চতুর্থ সংশোধনীতে হারানো ক্ষমতা সামরিক আইনে ফিরে পাওয়ার কথা বেমালুম ভুলে গিয়েছে আদালত
- আইনের শাসনের তামাশা ও বাকশাল ‘দর্শনের’ জের
- আদালত অবমাননার বিচার ও দণ্ড প্রসঙ্গ
- ‘কমিউনিস্ট’দের রিমান্ড সমস্যা
- হাসিনার কনস্টিটিউশন সংশোধন: আসলে কি হতে যাচ্ছে?
- সংজ্ঞাহীন অবারিত এখতিয়ার বন্ধ হবে কবে?
- ছয় বছরেও চূড়ান্ত হয় নাই আদালত অবমাননা আইন